অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের গাড়ি ব্যবহার নিয়ে মিডিয়া খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।সরকারি গাড়ি ব্যবহারের থোড়াই কেয়ার করছেন উপদেষ্টাদের অনেকে|অভিযোগ আছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোন কোন উপদেষ্টা নিজে ও দপ্তরের নামে তিন থেকে চারটি গাড়ির দখলে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পরিবারের সদস্যরা সেই গাড়ি হরহামেশাই ব্যাবহার করছেন।
শুধু তাই নয়, উপদেষ্টাদের একান্ত সচিব সহকারী একান্ত সচিব, জনসংযোগ কর্মকর্তা ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়ি হাঁকাচ্ছেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়মের চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে এটি সবার প্রত্যাশা উপদেষ্টা গাড়ির দে-দারছে ব্যবহার করা থেকে শুরু করে এমন কিছু কর্মকাণ্ড করেছেন যা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দৈনিক পত্রিকা সমকালের এক অনুসন্ধান বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারে 22 উপদেষ্টার মধ্যে আট জন ছাড়া বাকি সবাই একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন।একমাত্র বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সরকারি কোনও গাড়িতে চড়েন না কারণ তিনি এমনিতে শিল্পপতি এবং সরকারি গাড়ির চেয়ে তাঁর বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। যে কারণে সরকারি কাজেও তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর বা পরিবহন পুল থেকে একটি করে টয়োটা হাইব্রিড গাড়ি বরাদ্দ পান সব উপদেষ্টা দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেল সমপরিমাণ টাকাও পাচ্ছেন তাঁরা।তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকজন উপদেষ্টার পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করছেন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার দামি গাড়ি।
এজন্য বিভিন্ন দপ্তর থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে একাধিক চালক ও এসব বাড়তি গাড়ির পিছনে চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাবদ গাড়ি প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রতি মাসে গচ্চা যাচ্ছে প্রায় লাখ টাকা।পত্রিকাটি আরও বলছে, সরকারি গাড়ি ব্যবহারের দিক থেকে এগিয়ে আছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
প্রভাব খাটিয়ে উপদেষ্টা দুটি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প থেকে নিয়েছেন একটি, অন্যটি সরকারি পরিবহণের পুল থেকে নেওয়া পরিবহন পুলের গাড়ি। বেশিরভাগ সময় উপদেষ্টার পরিবারের কাজে ব্যবহার হয়। উপদেষ্টা স্যারের চালক তিনজন দু জন স্যারের ডিউটি করেন।
আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের চালক টিটিু সবসময় তার বাসার ডিউটি করেন ফারুক আজমের দপ্তরের নামে বরাদ্দ দেওয়া আরও দুটি গাড়ি রয়েছে।সেগুলো ব্যবহার করেন তাঁর পিএসও পিআরও এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং অর্থ প্রতিষ্ঠান সালাউদ্দিন আহমেদ একাই ব্যবহার করছেন তিনটি গাড়ি।
এদিকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, তাঁর পিএসও এমপিএস সহ ছয়টি গাড়ি ব্যবহার করছেন। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা আলী ইমাম মজুমদার ব্যবহার করছেন একাধিক গাড়ি এ ছাড়া উপদেষ্টা সার্বিক এস মুরশিদ, আ ফ ম খালিদ হোসেন চলছে নিজ মন্ত্রণালয় গাড়িতে।তবে তাঁদের দুজনের পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নূরজাহান বেগম শুধু পুলের একটি গাড়ি বরাদ্দ নিলেও চালক পেয়েছেন দুজন। তারা হলেন হাবিবুর রহমান ও সুকান্ত কুমার উজ্জ্বল,চালক হাবিবুর বলেন, আমরা দুজনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডিউটি করি। ১৯৭৩ সালে দি মিনিস্টারস মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস আইনে বলা হয়,মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী অর্থাৎ বর্তমান উপদেষ্টারা মন্ত্রী মর্যাদা সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি পাবেন যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ জোগাবে সরকার।
পরে সংশোধনী আইনে বলা হয়, জরুরি দপ্তরের কাজের জন্য কিংবা ঢাকার বাইরে নির্ধারিত কোনও সফরে গেলে অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দপ্তর কিংবা সংস্থাকে জিপ গাড়ি সরবরাহ করতে হবে।
উপদেষ্টাদের গাড়ি ব্যবহার প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং নিয়মের ব্যত্যয় যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা এই সরকারের জন্য জরুরি।অন্তর্বর্তী সরকার এমন কিছু নজির স্থাপন করবে, যেটি পরে যে কোনো রাজনৈতিক সরকার এর জন্য দৃষ্টান্ত হবে।
আর যদি সেটি না করে একই ধারা অব্যাহত রাখে তাহলে সেটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুঃখজনক হবে।সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতের মতো যদি এটা হয়ে থাকে তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জনগণের প্রত্যাশা তাঁরা অতীতকে বাদ দিয়ে নতুনকে বরণ করবেন। কেউ ভুল করলে সেটা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।উপদেষ্টাদের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি ইতিমধ্যে বেশ আলোড়ন তোলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেননি। বিষয়টি নতুন বোতলে পুরাতন মদ বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন অনেকে।